31 C
Dhaka
Monday, September 26, 2022

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে ধর্মের নির্দেশনা

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে ধর্মের নির্দেশনা

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যে কেউ যে কারও সঙ্গে সহজেই দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। কোনো রকমের যাচাই বাছাই ছাড়াই যে কোনো মন্তব্য বা পোস্ট করতে পারেন।

এ সুযোগে অনেকে ফেসবুকের কমেন্ট ঘরে ও টাইমলাইনে ধারণাপ্রসূত বা অনুমাননির্ভর এমন সব কথা লিখে দেন যা ডাহা মিথ্যাচার ও অপবাদ ছাড়া কিছু নয়। কখনো এমন সব গুজব ছড়িয়ে দেন যার ফলে সারা দেশে অরাজকতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে যায়। এসব অত্যন্ত গর্হিত কাজ। ইসলাম এসব বিষয়কে কঠিনভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

কুরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই করো। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’ (সূরা হুজরাত : ১২)।

মানুষের প্রত্যেক কথা ও কাজ আল্লাহর দরবারে হিসাব দিতে হবে। না জেনে অনুমাননির্ভর মন্তব্য করা জঘন্য পাপ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি হচ্ছে এই জঘন্য পাপ। কারণ কেউ কাউকে অপছন্দ করলে তার কমেন্ট ঘরে এসে অপবাদ ও ধারণাপ্রসূত মন্তব্য করাটাই যেন দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছে। মানুষ রুটিন করেই কমেন্ট করে যাচ্ছে অন্যের পোস্টে। তবে কমেন্টে লেখা শতকরা নব্বই ভাগই ধারণাপ্রসূত। অনেকেই আবার হাসির ছলেও মিথ্যা বানোয়াট কমেন্ট করে দেয় যা আরও মারাত্মক। কারণ হাসির ছলেও মিথ্যা অপবাদ দেওয়া কবিরা গুনাহের শামিল।

কুরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যা কিছু আকাশসমূহে রয়েছে এবং যা কিছু জমিনে আছে, সব আল্লাহরই। যদি তোমরা মনের কথা প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো, আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে তার হিসাব নেবেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দেবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।’ (সূরা বাকারা : ২৮৪)।

অন্য আয়াতে আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘যে বিষয়ে তোমার নিশ্চিত জ্ঞান নেই (তাকে সত্য মনে করে) তার পেছনে পড় না। জেনে রেখ, কান, চোখ ও অন্তরের প্রতিটি সম্পর্কে (তোমাদের) জিজ্ঞেস করা হবে।’ (বনি ইসরাইল : ৩৬)।

আমরা মুসলমান। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সবকিছুর একদিন হিসাব আল্লাহর দরবারে দিতে হবে। আমরা ছোট-বড় যে কোনো কাজ করি না কেন সবকিছু আল্লাহর দরবারে লেখা থাকে। আমাদের মুখে উচ্চারিত সব কথাই আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের মধ্যমে লিপিবদ্ধ করে রাখেন। কুরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তৎপর প্রহরী তার সঙ্গেই রয়েছে।’ (সূরা কাফ : ১৮)।

যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় তাদের মারাত্মক রোগ হলো তারা কাউকে অপছন্দ করলে তার ভিডিও, অডিও ক্লিপ বা ছবি বিকৃতভাবে শেয়ার করেন যাচাই-বাছাই ছাড়াই। না জেনে না শুনে গুজব ছড়িয়ে দেন অনায়াসে। অথচ যে কোনো খবর যাচাই-বাছাই ছাড়া শেয়ার বা প্রচার করা অত্যন্ত নিকৃষ্ট কাজ। কুরআনে এ ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।’ (সূরা হুজুরাত : ০৬)। হাদিসে এসেছে, আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, নবি (সা.) বলেছেন, মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা কিছু শোনে (বিনা বিচারে) তা-ই বর্ণনা করে।

(মুসলিম : ৫, আবু দাউদ : ৪৯৯২)।

লেখক : শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

পূর্ববর্তী পোষ্টকৃত খবরাখবরকোথায় দান-সদকা করা যাবে
পরবর্তী পোষ্টকৃত খবরাখবরকবিতাঃ তাঁরা আমি এবং সে

সম্পর্কিত

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সোস্যাল মিডিয়া

50,000ভক্তলাইক
50,000ফলোয়ার্সফলো
50,000ফলোয়ার্সফলো
50,000গ্রাহকদেরসাবস্ক্রাইব

সর্বশেষ